আমরা অনেকেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে ব্যাংকে টাকা রাখি, ডিপিএস করি কিংবা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করি। বছর শেষে এই বিনিয়োগ থেকে কিছু মুনাফা বা লভ্যাংশও আমাদের হাতে আসে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই আয়গুলো কোন খাতে দেখাবেন?

নতুন আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬২ অনুযায়ী, এই ধরনের আয়গুলোকে এখন থেকে 'আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়' (Income from Financial Assets) হিসেবে গণ্য করা হয়।

চলুন জেনে নেই এই খাতের অন্তর্ভুক্ত আয়ের উৎসগুলো কী কী:

১. সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে আয় আপনি যদি সরকারি কোনো বন্ড বা অনুমোদিত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে সেখান থেকে প্রাপ্ত সুদ বা মুনাফা এই খাতের অধীনে আসবে।

২. ডিবেঞ্চার ও বন্ডের সুদ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কোনো কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে যে সুদ পাওয়া যায়, তা-ও এই আর্থিক পরিসম্পদের অংশ।

৩. ব্যাংক আমানতের মুনাফা এটি আমাদের অনেকের জন্যই সাধারণ বিষয়। যেকোনো ব্যাংকে রাখা:

  • মেয়াদী আমানত (FDR)
  • ডিপিএস (DPS)

কিংবা সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট (Savings Account) এই সবগুলোর মুনাফাই এখন 'আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়' হিসেবে রিটার্নে দেখাতে হবে।

৪. অনুমোদিত আর্থিক স্কিম ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন অনুমোদিত স্কিম থেকে প্রাপ্ত প্রফিট বা মুনাফাও এই ধারার অন্তর্ভুক্ত।

৫. লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড (Dividend) শেয়ার বাজার বা কোনো কোম্পানির শেয়ার থেকে বছর শেষেaএই খাতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। সেটি 'মূলধনি আয়' হিসেবে আলাদাভাবে গণ্য হবে।

কেন এই হিসাব রাখা জরুরি? সঠিক খাতের অধীনে আয় দেখালে আপনার কর নির্ধারণ সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে আইনি ঝামেলা এড়ানো যায়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক বা কোম্পানি থেকে আপনার মুনাফার ওপর অগ্রিম কর (AIT) কেটে রাখা হয়, যা আপনার রিটার্নে সমন্বয় (Adjust) করার জন্য সঠিক হিসাব রাখা প্রয়োজন।

পরিশেষ: বিনিয়োগের সঠিক হিসাব রাখুন এবং আয়ের উৎসগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করুন। আইন মেনে রিটার্ন জমা দিন, নিশ্চিন্তে থাকুন।